আজ ২৬ আগস্ট ২০২৬, বুধবার – ১ ইউরোতে কত টাকা পাওয়া যাবে?
ইউরোপ থেকে কেউ টাকা পাঠাবে, নাকি নিজেই ভ্রমণে যাচ্ছেন, নাকি ব্যবসার কাজে ইউরোতে পেমেন্ট করতে হবে — কারণ যাই হোক, প্রথম প্রশ্নটা সবারই এক: আজ ১ ইউরোতে কত টাকা পড়বে?
এখন ইউরোর দাম ঘোরাফেরা করছে ১৪১-১৪২ টাকার মধ্যে। মানে হাতে যত ইউরো আছে, সেটাকে ওই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলেই মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে যাবেন কত টাকা হবে। তবে একটা কথা বলে রাখি — এই রেট পাথরে খোদাই করা কিছু না। সকালে যা ছিল, বিকেলে তা নাও থাকতে পারে। তাই বড় কোনো লেনদেনের ঠিক আগে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজে গিয়ে একবার হারটা যাচাই করে নেওয়াই ভালো। এতে অন্তত ঠকে যাওয়ার ভয় থাকে না।
নিচে কিছু হিসাব দিয়ে রাখছি, কাজে লাগবে:
ইউরো টু আনুমানিক টাকার রেট নিচের ছকে দেখানো হলো:
| ইউরো | টাকা |
| ১ | ১৪২ |
| ১০ | ১,৪২০ |
| ৫০ | ৭,১০০ |
| ১০০ | ১৪,২০০ |
| ৫০০ | ৭১,০০০ |
| ১,০০০ | ১,৪২,০০০ |
| ৫,০০০ | ৭,১০,০০০ |
| ১০,০০০ | ১৪,২০,০০০ |
এখানে যা লেখা আছে সবই আনুমানিক হিসাব — ব্যাংকভেদে রেটে সামান্য এদিক-সেদিক হতেই পারে।
এই খবরটা আসলে কাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ? প্রথমেই আসে ইউরোপ-প্রবাসী পরিবারগুলোর কথা। মাসের শেষে যে টাকাটা দেশে পাঠানো হয়, সেটার আসল মূল্য কিন্তু নির্ভর করে ওই মুহূর্তের রেটের ওপর। ইউরোর দাম যদি বাড়তির দিকে থাকে, একই পরিমাণ ইউরোতে পরিবার হাতে বেশি টাকা পায় — উল্টোটাও সত্যি। তাই টাকা পাঠানোর আগে রেটটা একবার দেখে নিলে পরিবারকে সঠিক প্ল্যান দেওয়া যায়।
ব্যবসায়ীদের জন্যও ব্যাপারটা কম গুরুত্বপূর্ণ না। ইউরোপের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির একটা বড় অংশ চলে ইউরোতেই। মেশিনারি বা কাঁচামাল আনতে গেলে ইউরোর দাম বাড়লে খরচও বেড়ে যায়। আবার পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য উল্টো ছবি — ইউরোর দাম বাড়া মানেই একই রপ্তানিতে বেশি টাকা ফেরত আসা।
আর যারা ভ্রমণে বা পড়াশোনার জন্য ইউরোপ যাচ্ছেন, তাদের তো বাজেট ঠিক করতেই এই তথ্যটা লাগবে। পুরনো বা ভুল রেট মাথায় রেখে পরিকল্পনা করলে শেষে গিয়ে বাজেট গুলিয়ে যেতে পারে, এমনকি কোনো অসৎ এক্সচেঞ্জারের খপ্পরেও পড়া যেতে পারে।
একটু পেছনে গেলে, ইউরো কিন্তু খুব পুরনো মুদ্রা না। ১৯৯৯ সালে চালু হয়েছিল এই মুদ্রা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটা দেশ মিলে। এখন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ প্রায় বিশটার বেশি দেশ এই মুদ্রা ব্যবহার করে, আর বিশ্ববাজারে ডলারের পরেই এর অবস্থান বেশ শক্তিশালী।
শেষে ছোট্ট একটা পরামর্শ — এক জায়গার রেট দেখেই লেনদেন করে ফেলবেন না। দুই-একটা ব্যাংক বা অনুমোদিত এক্সচেঞ্জারের রেট মিলিয়ে দেখুন, অচেনা বা অনানুষ্ঠানিক কোনো মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা বিনিময় থেকে দূরে থাকুন, আর টাকা পাঠানোর ঠিক আগে রেটটা আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিন। এই ছোট্ট সাবধানতাটুকুই অনেক সময় বড় ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
