বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনেই ই-পাসপোর্ট তৈরি করছেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কারণে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পাসপোর্ট সাধারণত ৪৮ কিংবা ৬৪ পাতার হয়ে থাকে এবং মেয়াদ থাকে পুরো ১০ বছর।
ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে হলে- প্রথমেই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। আবেদন শেষে নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন- বিকাশ কার NID দিয়ে খোলা জানার সহজ উপায়
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়- সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে সেক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়।
এছাড়া আবেদনকারীর একটি বৈধ মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানাও দিতে হয়। কারণ আবেদন সংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদন ফরমের সামারি কপি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট কপি প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে হবে। পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় এগুলো জমা দিতে হয়।
যারা নতুন পাসপোর্ট করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত অতিরিক্ত কোনো জটিল কাগজ লাগে না। তবে পেশাভেদে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে, এনওসি বা অনুমতিপত্র লাগতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ছাত্র পরিচয়পত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদ চাওয়া হতে পারে।
এছাড়া পুরোনো এমআরপি বা হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর করতে চাইলে পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি সঙ্গে নিতে হবে।
পাসপোর্ট আবেদন করার সময়, আবেদনকারীর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এসব তথ্য যাচাই করা হয়।
ই-পাসপোর্টের ফি, নির্ভর করে ডেলিভারি সময় এবং পাতার সংখ্যার ওপর। সাধারণ ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সরকারি ফি তুলনামূলক কম হলেও জরুরি ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য বেশি টাকা গুনতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেদন করার সময় কোনো তথ্য ভুল দিলে পরে সংশোধন করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হতে পারে। তাই নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও এনআইডির তথ্য খুব সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা উচিত।
আরও পড়ুন- ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর ৬ সহজ উপায়, মুহূর্তেই মিলতে পারে দ্রুত সংযোগ
অনেকে দালালের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। তাই সরকার অনুমোদিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনলাইনের মাধ্যমে সিরিয়াল নিয়ে সহজেই আবেদন করা যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় ই-পাসপোর্ট করা এখন অনেক সহজ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের আবেদন দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
অফিশিয়াল আবেদন ওয়েবসাইট: Bangladesh e-Passport Portal
FAQ:
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?
ই-পাসপোর্টের ফি, নির্ভর করে ডেলিভারি সময় এবং পাতার সংখ্যার ওপর। সাধারণ ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সরকারি ফি তুলনামূলক কম হলেও জরুরি ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য বেশি টাকা গুনতে হয়।
নতুন ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?
যারা নতুন পাসপোর্ট করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত অতিরিক্ত কোনো জটিল কাগজ লাগে না। তবে পেশাভেদে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করব?
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: Bangladesh e-Passport Portal এ গিয়ে চেক করা যায়।
পাসপোর্ট এবং ই-পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
পাসপোর্ট এর আবেদন অফিসে গিয়ে করতে হয় আর ই-পাসপোর্টের আবেদন ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজেই করা যায়।
